বিখ্যাত কিংবা সমাজে পরিচিত ও সুনামধারী ব্যক্তিদের নামে ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণার অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। এসব অ্যাকাউন্টে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম, প্রোফাইল ছবি এবং পোস্ট হুবহু ব্যবহার করা হয়। এমনকি বন্ধু তালিকাও অনেক সময় আসল অ্যাকাউন্টের মতোই থাকে।
ফেসবুক এই ধরনের অ্যাকাউন্টকে ‘ইমপারসোনেটিং’ বা ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট বলে। অর্থাৎ, এখানে কেউ একজন অন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। ফলে, অনেক সময় প্রতারণার শিকার ব্যক্তি বুঝতেই পারেন না যে তিনি আসল ব্যক্তির সঙ্গে নয়, বরং একটি ভুয়া অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
পুলিশ বলছে, এসব ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে যৌন হয়রানি, অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পর্যন্ত পরিচালিত হয়। অভিযোগ পেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। তবে অনেক সময় অভিযোগ করার আগেই মানুষ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন।
পুলিশের ভাষ্য, অনেক ভুক্তভোগী সামাজিক লজ্জা বা ভয় থেকে থানায় অভিযোগও করতে চান না। এ ধরনের অসংখ্য খণ্ড খণ্ড ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। কেউ কেউ ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে টাকা-পয়সা হারাচ্ছেন।
একইভাবে সিলেটেও ফেসবুকের ফেক আইডি ব্যবহার করে অনেক গুণীজনের নাম ও ছবি দিয়ে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে। আড়ালে থাকা এসব ফেকবাজ প্রতিনিয়ত নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এতে সমাজে ভালো মানুষের মান-সম্মান প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
দেখা গেছে, অনেক সামাজিক, রাজনৈতিক ও চাকরিজীবী ব্যক্তির ছবি এডিট করে কিংবা মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তাদের ব্যক্তিত্ব ও সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে অনেকেই থানায় গিয়ে জিডি করলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে আব্দুল হামিদ নামে এক ভুক্তভোগী বলেন, “আমার নাম ও ছবি ব্যবহার করে ‘ফারজানা’ নামে একটি ফেক আইডি থেকে আমার সম্পর্কে মিথ্যাচার ও ভুল তথ্য ছড়িয়ে আমার ও আমার পরিবারের মানহানির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আমি থানায় গিয়ে বিষয়টি উল্লেখ করে জিডি করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উপকার পাইনি।”
আপ্তাব নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, “এই আইডি থেকে আমার নামে অনেক মিথ্যাচার করা হচ্ছে। আমার ছবি এডিট করে হিজড়া ও মেয়ের ছবি বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হচ্ছে। এতে আমি নিজের স্বজনদের কাছে ও সমাজে অনেক লজ্জায় পড়েছি। অবশেষে বাধ্য হয়ে সিলেট কোতোয়ালী মডেল থানা-এ গিয়ে জিডি করেছি, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো উপকার হয়নি।”
এ বিষয়ে খান মুহাম্মদ মাঈনুল জাকির বলেন, “অভিযোগ আসলে আমরা ব্যবস্থা নিই। তবে ফেসবুক ফেক আইডি কে চালাচ্ছে, সেই তথ্য জানতে আমরা সিআইডি-এর কাছে আবেদন করি। তাদের রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা জানতে পারি কে ফেক আইডি পরিচালনা করছে। এরপর সেই সাইবার অপরাধীকে আটক করার চেষ্টা করি এবং অনেক সময় সফলও হই।”
সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন