• ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৭শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

গরিবের বন্ধু ডাঃমোজাহারুল”র বদলিতে মর্মাহত এলাকাবাসী

sylhetnewspaper.com
প্রকাশিত জুলাই ৭, ২০২১
গরিবের বন্ধু ডাঃমোজাহারুল”র বদলিতে মর্মাহত এলাকাবাসী

কৈতক ২০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃমোজাহারুল ইসলামের বদলিতে আবেগআপ্লুত ও মর্মাহত জাউয়া এলাকাবাসী।

কিছুতেই যেন তারা এ বদলি মেনে নিতে পারছেনা। বিশেষ করে তার এ বদলির খবরে এলাকার দরিদ্র রোগীরাই বেশি কষ্ট অনুভব করছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,ডাক্তার মোজাহারুল ইসলাম রোগীদের খুব ভালো ট্রিটমেন্ট চিকিৎসা দিতেন।

তিনি অভাবি গরীব রোগীদের থেকে ফি নিতেন না।
গরীবদেরকে জন্য ছাড় দিতেন।এমনকি করোনাকালীন সময়ে অফলাইন অনলাইনে রোগী দেখা,মধ্যরাতে ও অনলাইনে সেবা দেওয়া, গরীব রোগীদের সাহায্য সহযোগীতা করায় একজন ভালো মানুষ হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেন তিনি।

কৈতক হসপিটালের দুর্নীবাজ নার্স ও একটি চক্রের বিরুদ্ধে কথা বলায় তিনি তাদের রোষানলে পতিত হন।
একটি চক্র স্বার্থবাদী মহল তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।দুর্নীতিবাজ চক্র তার সাময়িক বদলীতে আনন্দ উল্লাস ও মিষ্টি বিতরণ করছে।

ইহাতেই বুজা যায় তিনি কতটুকু সৎ এবং দুর্নীতি বাজদের জন্য কত টুকু আতংক ছিলেন। হাসপাতালের দুর্নীতি বাজদের রাম রাজ্যত্বের একমাত্র বাঁধা ছিলেন ডাঃমোহাম্মদ মোজাহারুল ইসলাম। অপর দিকে সাধারণ রোগীদের ভালবাসা আশ্রয় স্থল ছিলেন তিনি।

ডাক্তার মোজাহারুল ইসলাম যোগদানের পুর্বে কৈতক হাসপাতাল ছিল একটি রেফার্ড হাসপাতাল এবং দুষ্ট লোকের আড্ডা খানা।পুকুর পাড়ে সন্ধ্যার পর গাঞ্জাখাওয়ার আসর জমতো,চলতো তাসখেলা।

হাসপাতালের অন্তঃবিভাগে চুরির ঘটনা ছিল নিত্য দিনের ঘটনা। তিনি যোগদানের পর কঠোর হস্তে এইগুলো দমন করেন। সাথে সাথে হাসপাতালে বসে নার্সদের বে-আইনি প্রাইভেট প্রেক্টিস বন্ধ সহ বিভিন্ন অনিয়ম বন্ধ করার চেষ্টা করেন। একসাথে সবকিছু ধরতে গিয়ে বার বার তিনি হয়রানির স্বীকার হয়েছেন। প্রতিবার উক্ত এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি সহ সাধারণ জনগণ ডাঃ মোজাহারুল ইসলামকে সাপোর্ট করেছে তার কাজ কর্মের জন্য।

তার মতো সাহসী, অন্যায়ের প্রতিবাদকারী সৎ,কর্মঠ এবং নীতিবান ডাক্তার কৈতক হাসপাতালে পুর্বে আর আসেনি। আর কাজ গুলো করতে গিয়ে সমাজের কিছু স্বার্থবাদী মানুষের দোষমনে পরিণত হইলেও সাধারণ জনগণের মাঝে তিনি ছিলেন ব্যাপক জনপ্রিয়।তার নিজের প্রচেষ্টায় আজ কৈতক হাসপাতালে ৪ টি অক্সিজেন কন্সেন্ট্রের,১৮ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার(সরকারি ৯ টি +অনুদান ৯ টি),১ টি ফটোথেরাপী মেশিন,১ টি রেডিয়াম ওয়ার্মার।১ বছর আগেও উক্ত হাসপাতালে মাত্র ৩ টা ছোট অক্সিজেন সিলিন্ডার ছিল।তার প্রচেষ্টায় জাউয়াবাজার উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদ,সবুজ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট হাসপাতালের জন্য সাহায্যে হাত(চিকিৎসা সরঞ্জামাদি দিয়ে) বাড়িয়ে দিয়েছিল।

ডাক্তার মোজাহারুল ইসলামের বদলি করোনা ভাইরাস -১৯ প্রতিরোধে সাময়িক সময়ের জন্য বদলি বলে জানা যায়।

জাউয়া গ্রামের হেলাল উদ্দিন বলেন মোজাহারুল ইসলাম স্যার আমাদের কৈতক হাসপাতালে থাকলে চিকিৎসা সেবার আরো উন্নতি হতো। আমাদের কাছে যদি এমন কোন ম্যাজিক থাকতো যাতে যাওয়া আটকানো যেত, তাহলে আমরা এ এলাকাতেই রেখে দিতাম। মোজাহারুল ইসলাম স্যারের মতো একজন ভালো মানুষকে আমরা হারাতে চাইনা।

সিলেটের চিকিৎসা সেবা কৈতক হাসপাতালে হতো ডাঃ মোজাহারুল ইসলামের কারণে।
যে কোন দূর্ঘটনায় হাত পা ভাঙ্গলে, ডায়বেটিস চিকিৎসা প্রদানে উনার প্রশংসা সবাই করে।

জাউয়া এলাকার আব্দুল হাই বলেন কিছুদিন আগে আমি কৈতক হাসপাতালে আমি ভর্তি হই, তখন দেখি এক গরীব লোক হাত ভেঙে কৈতক এসেছে, তার কাছে টাকা নেই।

তখন তিনি একদম ফ্রীতে হাতের প্লাস্টার করে দেন এবং ঔষধ কেনার জন্য টাকা হাতে তুলে দেন।

তখন উনার প্রতি শ্রদ্ধা আরো বহুগুণ বেড়ে যায়।
তিনি আরও বলেন, আজ যখন আমি কয়েকজন দরিদ্র রোগীর সাথে কথা বললাম যে উনি চলে যাচ্ছেন বদলি হয়ে সবার মুখে কষ্টের ছাপ। কান্নাজড়িত কন্ঠে বলছেন ডাক্তার স্যারকে কি আমাদের জাউয়ায় রাখা যায়না? সত্যি খুব কষ্ট হচ্ছে।

একজন সু-চিকিৎসকের যে গুনাবলী থাকা দরকার (ধৈর্য,আন্তরিকতা,বিচক্ষনতা,অভিজ্ঞতা,শান্ত,ভদ্রতা, নম্রতা ও ত্যাগ) সবই ডাক্তার মোজাহারুল ইসলাম স্যারকে পরম করুনাময় অসীম রহমানুর রাহীম আল্লাহতালা দান করেছেন।

এ দিকে বদলি প্রসঙ্গে ডা.মোজাহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন এ এলাকায় ছিলাম,সাধারণ মানুষের অনেক ভালবাসা পেয়েছি। এখন পার্শবর্তী উপজেলায় বদলির অর্ডার হয়েছে।

সাধারণ মানুষের এতো ভালবাসার ব্যাপারে ডা.মোজাহারুল বলেন,আমি প্রথম থেকেই মনে করতাম আমি সার্ভিস দিতে এসেছি,এতে করে আমি এতো বেশি ভালবাসা পাবো,সেটা আমি কল্পনাও করতে পারিনি। আমি মানুষকে ভালবাসাটাকে আমার কর্তব্য মনে করেছি, তারা আমাকে প্রতিদান দিচ্ছে।

আমি মনে করি আন্তরিকভাবে কাজ করলে প্রতিদান দেওয়া যায়,মানুষের,দেশের ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন করা সম্ভব।

ডাঃমোহাম্মদ মোজাহারুল ইসলাম ২৭তম বিসিএস-এর মাধ্যমে ২৬-১১-২০০৮ সালে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন।তিনি বাংলাদেশের অন্যতম বিদ্যাপিঠ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হতে এমবিবিএস পরিক্ষা পাশ করেন ২০০৫ সালে।তিনি বিশ্বের অন্যতম বিদ্যাপিঠ লন্ডনের রয়েল কলেজের অধীনে আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা বিদ্যার উপর উচ্চতর ডিগ্রি এমআরসিপি ডিগ্রির অধ্যায়নরত একজন চিকিৎসক।

তিনি এমআরসিপি(ইউকে) এর প্রথম ও দ্বিতীয় পর্ব কৃত্বীত্বের সাথে উত্তীর্ণ হয়ে চুড়ান্ত মৌখিক পরীক্ষার জন্য আবেদন করেছেন এই শিক্ষাবছরে(২০২১/৩)।

ডাঃমোহাম্মদ মোজাহারুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •