• ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১০ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

সিলেটে যে ঘটনায় ক্ষুব্ধ কাউন্সিলররা

sylhetnewspaper.com
প্রকাশিত জুলাই ৯, ২০২৪
সিলেটে যে ঘটনায় ক্ষুব্ধ কাউন্সিলররা

ওয়েছ খছরুঃঃসিলেটের পুলিশ প্রশাসনের ওপর ক্ষুব্ধ সিটি কাউন্সিলররা। অপেক্ষায় আছেন লন্ডনে থাকা সিটি মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর। আগামী বৃহস্পতিবার তিনি সিলেটে আসবেন। এরপর মেয়রের কাছে নালিশ জানাবেন কাউন্সিলররা। তবে; ঘটনা অনুধাবন করে ইতিমধ্যে লন্ডনে থাকা সিটি মেয়রের সঙ্গে কথা বলেছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। আর মেয়রও মানবজমিনকে জানিয়েছেন; লন্ডন থেকে ফিরেই ঘটনার সমাধান করে দেবেন।

এ সময় পর্যন্ত তিনি কাউন্সিলরদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন। ঘটনা গত ২রা জুলাইয়ের। সিটি করপোরেশনের সিনিয়র কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদের বাসায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন কাউন্সিলররা। এ ঘটনায় মামলা করা হলেও মূল আসামিরা পলাতক থাকায় সংক্ষুব্ধ তারা। কাউন্সিলররা সিটি করপোরেশনে কর্মবিরতির পাশাপাশি নগরের আলোচিত টিলাগড় এলাকায়ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

কর্মসূচির শেষ দিন ২রা জুলাই ছিল পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার দাবিতে পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ওই দিন সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পুলিশ কমিশনার বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করতে যান ভারপ্রাপ্ত মেয়র মখলিছুর রহমান কামরান সহ সিটি করপোরেশনের ১৫-১৬ জন কাউন্সিলর। পুলিশ কমিশনার মো. জাকির হোসেন খান ছুটিতে থাকায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার জোবায়েদুর রহমান কমিশনারের চলতি দায়িত্ব পালন করছিলেন।

উপস্থিত থাকা কাউন্সিলররা জানিয়েছেন; অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার সময় তাদের সঙ্গে ন্যূনতম সৌজন্যতাবোধ দেখানো হয়নি। ভারপ্রাপ্ত মেয়র নিজে উপস্থিত থাকলেও ওই পুলিশ কর্মকর্তা নিজের চেয়ারে বসেই স্মারকলিপিটি গ্রহণ করতে চান। এ সময় ভারপ্রাপ্ত মেয়র তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ দৃশ্য দেখে কাউন্সিলররা বিস্মিত হন। এক পর্যায়ে তারা অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারকে দাঁড়িয়ে স্মারকলিপিটি গ্রহণের অনুরোধ করেন। কিন্তু তাতেও কর্ণপাত করছিলেন না ওই পুলিশ কর্মকর্তা। উপস্থিত সাংবাদিকরাও ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও কাউন্সিলরদের কাছ থেকে দাঁড়িয়ে স্মারকলিপি গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান। কাউন্সিলররা জানান- তাদের এবং সাংবাদিকদের ‘চাপাচাপি’তে খানিক সময়ের জন্য উঠে দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার স্মারকলিপির কপিটি গ্রহণ করেন।

এদিকে; কাউন্সিলরদের সঙ্গে অশোভন আচরণের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে তোলপাড় শুরু হয়। এতে নগরের মানুষও ওই পুলিশ কর্মকর্তার আচরণের নানা মন্তব্য করেন। সিলেট সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মখলিসুর রহমান কামরান গতকাল বিকালে মানবজমিনকে জানিয়েছেন; ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর সেটি লন্ডনে থাকা মেয়রের কান পর্যন্ত পৌঁছে। আমরাও তাকে ওই পুলিশ কর্মকর্তার অসৌজন্যমূলক আচরণের কথা অবগত করেছি। এ ব্যাপারে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও মেয়রের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন। কী কথা হয়েছে সেটি জানি না। তবে; আমরা ঘটনায় ক্ষুব্ধ। এমন ঘটনা সিলেটের মাটিতে অতীতে কখনোই ঘটেনি।

মেয়র সিলেটে আসার পূর্ব পর্যন্ত অপেক্ষায় আছি। মেয়র আসার পর তাকে নিয়ে আমরা পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করবো। সিটি করপোরেশনের সিনিয়র কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ জানিয়েছেন- স্মারকলিপি দিতে গিয়ে পুলিশ ও জেলা প্রশাসনে সিটি কাউন্সিলররা অশোভন আচরণের শিকার হয়েছেন। যে ঘটনাটি ঘটেছে সেটি কাউন্সিলররা কেন, নগরের সচেতন নাগরিকরাও হতবাক। এমন ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা নেই।

তিনি বলেন; মেয়র এসে কী বলেন বা কী করেন- সেটি আমরা দেখার অপেক্ষায় আছি। এদিকে ঘটনার সময় ছুটিতে ছিলেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. জাকির হোসেন খান। গতকাল তিনি মানবজমিনকে জানিয়েছেন; ওই সময় আমি ছুটিতে ছিলাম। যদি কাউন্সিলররা মনে করেন অশোভন আচরণ হয়েছে তাহলে সেটি আমরা দেখবো। মেয়র মহোদয় সিলেটে এলে প্রয়োজনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি। এদিকে- শুধু অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনারই নয়,ওইদিন স্মারকলিপি দিতে গিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মোবারক হোসেনের রুমেও অশোভন আচরণে পড়েছিলেন সিটি কাউন্সিলররা। সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজুল লস্কর জানিয়েছেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকও ভারপ্রাপ্ত মেয়র এবং কাউন্সিলরদের বসিয়ে রেখে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন।

সিটি কাউন্সিলরদের দিকে মনোযোগী ছিলেন না। প্রায় ১৫ মিনিট বসিয়ে রাখার পর ভারপ্রাপ্ত মেয়র ও কাউন্সিলরদের কাছ থেকে স্মারকলিপি গ্রহণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত থাকা অনেক কাউন্সিলরও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের এমন আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এ ব্যাপারে লন্ডনে থাকা সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, দু’টি ঘটনাই আমি জেনেছি। এ নিয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। সংক্ষুব্ধ কাউন্সিলরদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। আমি বৃহস্পতিবার সিলেটে আসছি। বিষয়টি নিয়ে বসবো। তিনি বলেন, সমাধান হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন