• ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১০ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

সিলেট বিদ্যুৎ অফিসে কে সেই আল ইমরান, কোথায় তার খুঁটির জোর?

sylhetnewspaper.com
প্রকাশিত জুন ৩০, ২০২৪
সিলেট বিদ্যুৎ অফিসে কে সেই আল ইমরান, কোথায় তার খুঁটির জোর?

অপচয় ও বকেয়া বিল ঠেকাতে ভিশন-২০২১-এর আওতায় স্মার্ট প্রিপেইড মিটার সংযোজনের উদ্যোগ নিয়েছিল সরকার।

বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম ঠেকাতে সরকার বিপুল অর্থ খরচ করে যে উদ্যোগ নিয়েছিল তাকে ইস্যু করেই সিলেটে শুরু হয়েছে অনিয়ম-দুর্নীতির হিড়িক। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ এর নতুন সংযোগ পোস্ট-পেইড মিটার দেওয়া বন্ধ হলেও বিদ্যুৎ আইন ও নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা না করে অনিয়ম-দুর্নীতির আখড়ায় রুপ ধারণ করেছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৪ কুমারগাঁও সিলেট অফিসের বহু কর্মকর্তা। সঙ্গে যোগ হয়েছে গ্রাহক ভোগান্তির নতুন মাত্রা। সেই নীল নকশা বাস্তবায়নে কাজ করছেন বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৪ কুমারগাঁও সিলেট অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল ইমরান।

সরকার ঘোষণা দিয়ে চার বছর পূর্বে ২০২১ সালে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুৎ এর নতুন সংযোগ পোস্ট-পেইড মিটার স্থাপন বন্ধ করলেও সিলেটের এই অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল ইমরানের নেতৃত্বে সেই আদেশ উপেক্ষা করে নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা ছাড়াই খুলে আনা পোস্ট-পেইড মিটার গ্রাহকের অগোচরে জালিয়াতির মারফতে মালিকানা ও এলাকা পরিবর্তনের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু একটি চক্র। আর এসবের গুরু দায়িত্ব পালন করার অভিযোগ রয়েছে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল ইমরানের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে- উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল ইমরানের নেতৃত্বে নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা ছাড়াই খুলে আনা পোস্ট-পেইড মিটার গ্রাহকের অগোচরে জালিয়াতির মারফতে মালিকানা ও এলাকা পরিবর্তনের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপরাধে ইতিমধ্যে এই অফিসের দুইজন মিটার রিডার ও বিভাগীয় অফিসের কম্পিউটার সেকশনের একজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তারা হলেন- মিটার রিডার ওমর ফারুক ও মাহমুদ এবং কম্পিউটার সেকশনের টিটু শর্মা। কিন্তু অদৃশ্য কারণে ধয়াছোয়ার বাহিরে রয়েছেন এসব অপকর্মের মুলহোতা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল ইমরান। এ নিয়ে এই অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তাদের ভিতরে ভিতরে বইছে ক্ষোভের ঝড়।

আরোও জানা গেছে- উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল ইমরান জালালাবাদ থানাধীন গোয়াবাড়ি এলাকার প্রবাসী মোঃ আব্দুল ছালেকের ৭২৮১৪৪ নাম্বারের মিটার জালিয়াতির মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তন করে নয়াবাজার এলাকার শ্রী কল্পনা দাসের নামে প্রদান করেন। তবে তিনি নিজেই আবার গত ০৮/০৯/২০২২ ইং তারিখে এনালগ বলে মিটারটি খুলে নিয়ে আসেন। নিয়মনীতির বাহিরে এরকমটা হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মিটার মালিক প্রবাসী আব্দুল ছালেকের বাতিজা অমেল জানান- এ বিষয়ে তারা কিছু জানেন না তবে এসবের মূল কারিগর উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল ইমরান।

এছাড়াও দুসকি এলাকার মোস্তাক আলীর নামে গত ০৬/০৬/২০২১ ইং তারিখে একটি নতুন আবাসিক পোষ্ট-পেইড মিটারের সংযোগ নেন তিনি। সেই মিটারের ডিসপ্লেতে একটি নাম্বার আর বডিতে আরেকটি নাম্বার এবং আবাসিক বলে সংযোগ নিলেও বাণিজ্যিকখ্যাতে মিটারটি ব্যবহার করা হচ্ছে এমনটা সরজমিনে দেখা গেছে। র্দীঘদিন অদৃশ্য কারণে এ মিটারের বিদ্যুৎ বিল না পাঠালেও গত ০৮/০৯/২০২২ ইং তারিখে সর্বপ্রথম মাত্র ১৫০ ইউনিটের বিদ্যুৎ বিল প্রদান করে বিদ্যুৎ অফিস। কিন্তু সংযোগের পরবর্তী ১৫ মাসের বিদ্যুৎ বিলের কোন হদীস মিলে নি এমনকি এ নিয়ে কোন মাথা নেই যেনও বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃপক্ষের। এ লাইনের ইনর্চাজ উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল ইমরান কিন্তু এ বিষয়ে অদৃশ্য কারণেই যেনও কোন মাথা ব্যাথা নেই তার। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি তার সাথে যোগসাজশের ফলেই এমনটা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে- উপ-সহকারী আল ইমরান বাগেরহাট জেলার চিতলমারী থানার কচুড়িয়া গ্রামের খান আঃ মোতালেব এর পুত্র। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে তিনি বিগত ০৫/০১/২০১৭ ইং তারিখে উপ-সহকারী হিসেবে সম্পূর্ণ অস্থায়ী ভিত্তিতে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১, সিলেট অফিসে নিয়োগ পান। বিগত ১১/০৪/২০১৭ ইং তারিথে প্রশিক্ষণ ও পেশা উন্নয়ন পরিদপ্তর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ঢাকা এর পরিচালক দিনা রহমানের সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের সুত্রমতে তিনি বিগত ০২/০৫/২০১৭ ইং তারিখে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণে যান এবং সমাপ্ত করে ফের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১, সিলেট অফিসে যোগদান করেন।

বিগত ২৭/০৫/২০১৯ ইং তারিখে কর্মচারী পরিদপ্তর ওয়াপদা ভবন, ঢাকা এর উপ-পরিচালক মোঃ মাহবুব মুর্শেদের সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের সুত্রমতে বিগত ১৪/০১/২০১৭ ইং তারিখ হইতে তার চাকুরী স্থায়ী করা হয়েছিল। এই থেকেই শুরু হয় তার নানান অপকর্ম।

এছাড়াও বিগত ১১/০১/২০২২ ইং তারিখে কর্মচারী পরিদপ্তর ওয়াপদা ভবন, ঢাকা এর উপ-পরিচালক-৪ (কর্ম) মোঃ কার্নিজ জামানের সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের সুত্রমতে তারকর্মস্থল দিরাই বিদ্যুৎ সরবরাহ, দিরাই, সুনামগঞ্জে দেখিয়ে একই তারিখে তাকে দিরাই হতে একই প্রজ্ঞাপনের মারফতে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১, টাঙ্গাইলে বদলি করা হলেও বিগত ২০/০১/২০২২ ইং তারিখে একই পরিদপ্তরের আরকে প্রজ্ঞাপনের মারফতে ফের তার বদলির আদেশ বাতিল করা হয়, যা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ওয়েবসাইড সুত্রে জানা গেছে। কিন্ত পরিতাপের বিষয় তার সাবেক কর্মস্থল বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১, সিলেট অফিস থেকে দিরাই বিদ্যুৎ সরবরাহ, দিরাই, সুনামগঞ্জের অফিসে যোগদানের কোন প্রজ্ঞাপন কপি পাওয়া যায় নি এবং দিরাই বিদ্যুৎ সরবরাহ, দিরাই, সুনামগঞ্জের অফিস থেকে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৪ কুমারগাঁও সিলেট অফিসে উপ-সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের কোন প্রজ্ঞাপন কপিও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ওয়েবসাইডে পাওয়া যায় নি।

অনুসন্ধানে আরোও জানা গেছে- উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল ইমরানের নেতৃত্বে নিয়ম-কানুনের তোয়াক্কা ছাড়াই খুলে আনা পোস্ট-পেইড মিটার গ্রাহকের অগোচরে জালিয়াতির মারফতে মালিকানা ও এলাকা পরিবর্তনের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অপরাধে ইতিমধ্যে এই অফিসের দুইজন মিটার রিডার ও বিভাগীয় অফিসের কম্পিউটার সেকশনের একজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এ ঘটনায় সিলেটের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-৩ এর প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র সরকারকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু রহস্যজনক কারণে অপকর্মের মূলহোতা এই উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল ইমরানের বিরুদ্ধে কোন অপরাধ না দেখিয়ে তার পাপের সাম্রাজ্যের অপরাপর সহযোগী দুইজন মিটার রিডার- ওমর ফারুক ও মাহমুদ এবং কম্পিউটার সেকশনের টিটু শর্মার বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন এই তদন্ত কমিটি। যার ফলে এই তিনজনকে ইতিমধ্যে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অফিসের একাধিক কর্মকর্তা প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন। তাহলে এই অফিসে কে সেই উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল ইমরান আর কোথায় তার খুঁটির জোর? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সিলেটের সচেতনমহলে।

এসব বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আল ইমরানের সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান- আমি কাজে ব্যস্ত আছি প্রয়োজন হলে অফিসে আসুন বলে কৌশলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন