• ১৬ই জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১লা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১০ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি

তাহিরপুর নাশকতা মামলার আসামি, ইউএনও অফিসে চাকুরী করছেন !

sylhetnewspaper.com
প্রকাশিত মার্চ ১৪, ২০২৪
তাহিরপুর নাশকতা মামলার আসামি, ইউএনও অফিসে চাকুরী করছেন !

সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অফিসের উদ্যোক্তা হিসেবে চাকুরী করছেন নাশকতার মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামি। আওয়ামী লীগ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য বিভিন্ন অপতৎপরতায় লিপ্ত এবং তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক ঝাড়ু ও জুতা মিছিলে অংশগ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি করার অপরাধে একই উপজেলার মৃত আরব আলী মাষ্টারের পুত্র মোঃ এনায়েত হোসেন পাঠোয়ারী ও তার ভাই মোঃ বেলায়েত পাঠোয়ারী। যাহার থানার মামলা নং- ০২, তাং- ০৫/১১/২০১৮ ইং। এখন অদৃশ্য কারণে এজাহারভুক্ত আসামি মোঃ এনায়েত পাঠোয়ারী চাকুরী করছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই অফিসে। তবে এ নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এর।

উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মরত মোঃ এনায়েত পাঠোয়ারীকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে গত ২৫/১২/২০২৩ ইং তারিখে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও এবং তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছিলেন তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। এখনো পর্যন্ত আলোর মুখ দেখতে পায়নি আওয়ামী লীগ নেতাদের অভিযোগগুলো। নাশকতা মামলার আসামি মোঃ এনায়েত হোসেন পাঠোয়ারী নামে অফিসের উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মরত তাকলেও ইউএনও সালমা পারভীনের ব্যক্তি সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বিধায় ইউএনও এসব অভিযোগের তোয়াক্কা না করে তাকে বহাল রাখার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের।

জানা গেছে- আওয়ামীলীগ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও অপচেষ্টায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাহিরপুর থানার দায়েরকৃত সন্ত্রাস ও নাশকতা মামলার আসামি মো. এনায়েত হোসেন পাটোয়ারীকে রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলার স্বার্থে এমন অভিযোগ করেছেন বলে জানান আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিসে উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মরত মো. এনায়েত হোসেন পাটোয়ারীসহ তার পরিবারের সদস্যরা বিএনপি-জামায়াতের সক্রিয় কর্মী। বিগত ৪ নভেম্বর ২০১৮ ইং তারিখে আ. লীগ সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য বিভিন্ন অপতৎপরতায় লিপ্ত ছিল। ঐ সময় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমুলক ঝাড়ু ও জুতা মিছিলে অংশগ্রহণ করে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি করার চেষ্টায় জড়িত ছিল। যার ফলে এনায়েত পাটোয়ারী ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে তাহিরপুর থানায় নাশকতার মামলা নেওয়া হয়, যা এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। চলমান বিভিন্ন সরকার বিরোধী আন্দোলনে তার পরিবার সক্রিয় ভাবে জড়িত। এনায়েত হোসেন পাটোয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে উদ্যোক্তা হিসেবে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। গুরুত্বপূর্ণ এ অফিসের সকল প্রকার ই-মেইল এনায়েত পাতয়ারীর নজরে আসায় বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাঁধাগ্রস্থ হওয়ার আশঙ্কায় রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলার স্বার্থে এনায়েত পাটোয়ারীকে ইউএনও অফিস হইতে সরানো আবশ্যক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, এনায়েত পাঠোয়ারীকে ইউএনওর সঙ্গে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায়। অফিসিয়াল অনেক কাজেও তাকে সঙ্গে রাখা হয়। ইউএনও,র নাম ভাঙ্গিয়ে এনায়েত বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নিতি ও বাণিজ্যর সাথে জড়িত রয়েছে।

অভিযুক্ত মোঃ এনায়েত পাঠোয়ারীর ব্যবহৃত সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিক শুনেই ফোন রেখে দেন কিন্ত বারবার প্রতিবেদক ফোন দিলেও তিনি আর রিসিভ করেন নি।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করুনা সিন্ধু চৌধুরীর ব্যবহৃত সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য সংগ্রহ সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালমা পারভীন এর সরকারি সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য সংগ্রহ সম্ভব হয়নি।

সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রাশেদ ইকবাল চৌধুরীর সরকারি সেলফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান- বিষয়টি আমার জানা নেই খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউএনওকে বলে দিচ্ছি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন