• ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১২ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি

’অপরাধীদের বন্ধু এস.আই মিল্টন!

sylhetnewspaper.com
প্রকাশিত জানুয়ারি ১৫, ২০২৪
’অপরাধীদের বন্ধু এস.আই মিল্টন!

প্রায় দুই বছর ধরে সিলেটের শাহপরাণ (রহ.) থানাধীন উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মিল্টন রায় চৌধুরী।সিলেট মহানগর পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যও তিনি।

ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্ব পাওয়ার পর অনেকটা সক্রিয় থাকলেও একপর্যায়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন মিল্টন। সখ্য গড়ে তোলেন জুয়া,তীর ও মাদক কারবারিদের সাথে। এদের কারো কাছ থেকে তিনি সপ্তাহ চুক্তিতে আর কারো কাছ থেকে মাসিক চুক্তিতে অর্থ আদায় করেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দোহাই দিয়ে।

সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা মিল্টন রায় চৌধুরী অপরাধীসহ একাধিক প্রশ্নবিদ্ধ ব্যক্তির সাথে আঁতাত করেই চালিয়ে নিচ্ছেন উপশহর পুলিশ ফাঁড়ি।

দিনের বেলায় ফাঁড়ি নীরব থাকলেও রাতে বেড়ে যায় মানুষের আনাগোনা। মাদকসহ ব্যবসায়ীদের হাতেনাতে ধরেও কোনো আইনী ব্যবস্থা না নিয়ে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিতে দ্বিধা করেন না তিনি। শুধু তাই নয়; ছাত্রদল-বিএনপিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপশহরসহ আশপাশ এলাকায় সরকারবিরোধী অপতৎপরতা চালিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে নিরব থাকেন মিল্টন।খবর দৈনিক একাত্তরের কথা

ঊর্ধ্বতন কর্তাদের চাপে মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও সেই খবর আগে পৌঁছে দেয়া হয় সংশ্লিষ্টদের কাছে। ফলে অভিযানে গিয়ে শূন্য হাতে ফিরতে হয় পুলিশকে।

সূত্র জানায়, তীর ও ইয়াবাসহ নানা অপরাধের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে উপশহরের তেররতন,পশ্চিম তেররতনসহ আশপাশের এলাকা। একটি চক্র ভয়ভীতি দেখিয়ে ফাঁড়ির আওতাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা আদায় করলেও একেবারেই নীরব এসআই মিল্টন রায়।

স্থানীয়রা বলছেন,সিলেট নগরীর উপশহর সি ব্লকে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসে দালালদের দৌরাত্ম দিনদিন বাড়লেও এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না পুলিশ।

বরং এখানকার দালাল সিন্ডিকেট ও অফিসের সামনে বসা চায়ের দোকান থেকেও প্রতি সপ্তাহে টাকা নেন মিল্টন। সম্প্রতি নগরীর পশ্চিম তেররতন এলাকার গলির মুখ থেকে মেন্দিবাগের মাদক সাব্বির নামের এক যুবককে গাঁজা ও মোটরসাইকেলসহ ধরেন এসআই মিল্টন রায়।

কিন্তু ফাঁড়িতে নেওয়ার পরই বদলে যায় দৃশ্যপট। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেন তিনি। এছাড়া নগরীর উপশহরসহ আশপাশের এলাকায় চুরি-ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত রয়েছে এইচ ব্লককেন্দ্রিক একটি সক্রিয় গ্রুপ।

যে গ্রুপের সব তথ্য এসআই মিল্টনের কাছে থাকলে তিনি কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো টাকা আদায় করেন।

শুধু এখানেই শেষ নয়, তেররতন এলাকার‘আখড়ায়’তীর খেলা,ইয়াবা ও ফেনসিডিল ব্যবসায় জড়িয়ে আছেন কয়েকজন যুবক। তারা দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা ব্যবসা করছেন এসআই মিল্টনকে ম্যানেজ করে। সম্প্রতি এইচ ব্লকে চোরাই মালামাল বহনকারী একটি পিকআপ আটক করেন তিনি।

পরবর্তীতে টিলাগড় এলাকায় ওই চালকের শ্যালকের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা পেয়ে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়ে পিকআপ ছেড়ে দেন মিল্টন।

সূত্র আরও জানায়, এ বছরের ১ জানুয়ারি মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং ও সন্ত্রাসবিরোধী বিট পুলিশিং ও কমিউনিটি পুলিশিং সভা আয়োজন করা হয়। ওই সভায় শাহপরাণ থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন নানা পেশার কয়েকজন অপরাধী। তারা পুলিশ কর্মকর্তাদের সামনের চেয়ারেই বসা ছিলেন। তবে সভায় কোনো জনপ্রতিনিধি, ফাঁড়ির আওতাধীন ক্লাবের দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি কিংবা সামাজিক সংগঠনের কোনো নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সাইফুল ইসলাম বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সবসময় তৎপর। যারা অপরাধীদের মদদ দিচ্ছেন তাদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। অপরাধীদের বিরুদ্ধেও নেয়া হবে কঠিন ব্যবস্থা।

এ ব্যাপারে উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিল্টন রায় চৌধুরী জানান,অপরাধীদের বিরুদ্ধে সবসময় পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। জুয়া খেলা ও মাদক ব্যবসা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,কয়েকদিন আগেই পুলিশ এক ইয়াবা ব্যবসায়ীকে ধরেছে। ফাঁড়ির আওতাধীন এলাকায় কোনো মাদক ব্যবসা বা তীর খেলা হয় না বলে তিনি জানান।

সভার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,হঠাৎ করেই সভা আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বলা হলেও তারা না এসে সভায় লোকজন পাঠিয়েছেন। এই বিট পুলিশিং কার্যক্রমটা দেখেন পুলিশ সদস্য লোকমান। সভায় অতিথিদের চেয়ারে অনেক অপরাধী বসা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমাদের খেয়াল নেই।

স্থানয়ীরা জানান, তেররতন, পশ্চিম তেররতন, উপশহর এইচ ব্লক, লামাপাড়া, সোনারপাড়াসহ আশপাশ এলাকায় তীর খেলার জমজামট ব্যবসা চলছে পুলিশ ফাঁড়িকে ম্যানেজ করে। সেই সাথে তেররতনের আখড়া এলাকায় ইয়াবা,গাঁজা, ফেনসিডিলের জমজমাট ব্যবসা চলছে। এখানে দিনদুপুরে মাদক বিক্রি হয়। প্রকাশ্যে চলে তীর খেলা। যারা এসবের নেপথ্যে রয়েছেন তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন এসআই মিল্টন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •