• ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

জৈন্তাপুর সীমান্তে থানা পুলিশের নামে লেপটিন শহিদের চাঁদাবাজি!

sylhetnewspaper.com
প্রকাশিত ডিসেম্বর ১৫, ২০২৩
জৈন্তাপুর সীমান্তে থানা পুলিশের নামে লেপটিন শহিদের চাঁদাবাজি!

বিশেষ প্রতিবেদকঃঃ সিলেটের জৈন্তাপুর। ভারত সীমান্ত এলাকা।একসময় জৈন্তাপুরে চোরাচালানের ব্যাপক নামডাক ছিল।তবে কিছুদিনের জন্য সেই নামডাক থেকে বেরিয়ে এসেছিল জৈন্তাপুর।বর্তমানে আবারো চোরাকারবারিদের কারণে জৈন্তাপুরের সুনাম ক্ষুণ্ন্ন হতে হচ্ছে।

সীমান্ত দিয়ে গরু-মহিষ-সহ বিভিন্ন পন্যের চোরাকারবারির নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে।এ নিয়ে ত্যক্ত-বিরক্ত সীমান্ত এলাকার মানুষ।কোন কোন এলাকায় গরু-মহিষের অবাধ বিচরণই নষ্ট করে দিচ্ছে ফসলি জমি সহ রাস্তাঘাট।

এ নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে বিস্তর অভিযোগ জমা হয়েছে।তখন চোরাচালানের বিষয়টি আলোচিতও হয়েছিলো জৈন্তাপুর উপজেলার আইন শৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে।

উপজেলার এ বৈঠকে চোরাকারবার নিয়ে ক্ষোভও ঝাড়েন কয়েকজন।তারা বলেন-প্রতিটি গরু-মহিষের মালিকের কাছ থেকে প্রশাসনের তরফ থেকে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে।

জীবন বাজি রেখে চোরাকারবারিরা পশু নিয়ে আসছে সীমান্তের ওপার থেকে।এতে করে সীমান্ত হত্যা বাড়তে পারে।তাদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে কঠোর হয়েছিলেন প্রশাসন।

অবৈধভাবে ভারতীয় গরু-মহিষ প্রবেশ বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো।তবে বাস্তবরূপে-দিনের বৈঠকের কোনো ফলাফল রাতে পাওয়া যায়নি।প্রতি রাতে আগের তুলনায় বাড়ছে গরু মহিষ সীমান্ত দিয়ে নামানো।আর এসব পশু মানুষের ফসলি জমি বাসা বাড়ি মারিয়ে ছুটে গেছে গন্তব্যে।

সীমান্তঘেরা জনপদ,দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই জেলার দুই দিকেই আছে ভারত সীমান্ত।এই সীমান্ত এলাকা ঘিরে সক্রিয় একাধিক চোরকারবারিচক্র। সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রতিনিয়তই ভারত থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য বাংলাদেশে নিয়ে আসে এসব চক্র।

প্রায় সময়ই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে চোরকারবারি ও ভারত থেকে অবৈধভাবে আসা পণ্য ধরা পড়ে।আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে,চোরকারিদের বিরুদ্ধে জোরালো নজরদারি আছে। তবে এখনো অধরা জৈন্তাপুরের আলোচিত চোরাকারবারীদের নেতা-পুলিশের অবৈধ টাকার লাইনম্যান লেপটিন শহিদ ও তার সহযোগীরা।

এই লাইনম্যান চক্র দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।প্রশাসনও তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

ভারতীয় পণ্য থেকে দৈনিক লাখ লাখ টাকার চাঁদা আদায় করে আসছে থানা পুলিশের লাইনম্যান শহিদ ওরফে লেপটিন শহিদ। তার বাস্তবতা পাওয়া যায় থানার কম্পাউন্টে লেপটিন শহিদ একটি প্রাইভেট কার পুলিশের হয়ে তল্লাশি করার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়।

লাইনম্যান পরিচয়দানরী লেপটিন শহিদ চোরাকারবারীদের প্রকাশ্যে নেতৃত্ব দিচ্ছে। বিনিময় রাতের আধারে লক্ষ লক্ষ টাকার চাঁদা দিচ্ছেন চোরাকারবারীরা।

বানের পানির মত সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে ভারতীয় গরু-মহিষ,নাছির বিড়ি মদ,ইয়াবা,মোটরসাইকেল,মোবাইল ও কসমেট্রিক্স সহ ইত্যাদি সামগ্রী।

কিন্তু লেপটিন শহিদ নেতৃত্ব থাকার কারণে কোন চোরাকারবারীর অবৈধ পণ্য আটক করেনি থানা পুলিশ। উল্টো পুলিশের হয়ে শহিদ নিজেও গাড়ি আটক করে

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়,লেপটিন শহীদ নামের এই ব্যক্তি এই চোরাকারবারীদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। বিজিবি ও পুলিশের নামে চাঁদা আদায় করে। যারফলে লাইনম্যান লেপটিন শহিদের লোকেদের জন্য প্রশাসনের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে বলে মনে করেন এলাকার সচেতন মহল।

লেপটিন শহিদ এর আগে বেন্ডিস করিম নামক এক ব্যাক্তি ছিলেন এই লাইনের দায়িত্বে। বেন্ডিস করিম লাইন থেকে অবৈধ টাকা কামাই করে অল্প দিনে হয়ে যান আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ। করিম এখন কোটি কোটি টাকার মালিক।

লেপটিন শহিদের শেল্টার নিয়ে প্রতিদিন জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ডিবির হাওর সীমান্তে ঘিলাতৈল এলাকায় বিজিবি‘র টহল টিম ফাঁকি দিয়ে চোরাকারবারীরা ভারতীয় অবৈধ পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানিতে ব্যস্ত থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জৈন্তাপুর উপজেলার জৈন্তাপুর ইউনিয়নের ৪৮ বিজিবি’রনিয়ন্ত্রনাধীন,আলুবাগান,মোকামপুঞ্জি,শ্রীপুর আদর্শগ্রাম,মিনাটিলা,কেন্দ্রী,কাটালবাড়ী,নিজপাট ইউনিয়নের ডিবিরহাওর,খলারবন্দ এবং ১৯ বিজিবি’র নিয়ন্ত্রনাধীন ফুলবাড়ী,ঘিলাতৈল,টিপরাখলা,কমলাবাড়ী,গোয়াবাড়ী,বাইরাখেল, হর্নি,কলিঞ্জি,চারিকাটা ইউনিয়নের জালিয়াখলা,বাগছড়া, লালাখাল,তুমইর,অফিফানগর,বালিদাঁড়া,ইয়াং রাজা এলাকা দিয়ে গত এক মাস হতে নতুন করে চোরাকারবার সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা বানের পানির মত ভারতীয় মদ,বিআর,ফেন্সীড্রিল,শেখ নাছির উদ্দিন বিড়ি(পাতারবিড়ি)বিভিন্ন ব্যান্ডের সিগারেট,ইয়াবা,বিস্কুট,কসমেট্রিক্স,বিভিন্ন ব্যান্ডের মোবাইল সহ নানান সামগ্রী বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখা যায়৷

এসব পণ্য বাংলাদেশে প্রবেশ করতে লেপটিন শহিদ ও বিজিবি ও পুলিশে নাম ব্যবহার করে প্রকাশ্যে লাইনম্যান নামক এই চক্র চোরাকারবারীদের নিকট হতে চাঁদা আদায় করে আসছে৷

এ বিষয়ে লেপটিন শহিদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক শুনে ফোন কেটে দেয়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন