• ২৪শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

কানাইঘাটে কিছুতেই থামছে না জাকিরের পর্চা জালিয়াতি !

sylhetnewspaper.com
প্রকাশিত নভেম্বর ১৩, ২০২৩
কানাইঘাটে কিছুতেই থামছে না জাকিরের পর্চা জালিয়াতি !

নিজস্ব প্রতিবেদক: সিলেটের কানাইঘাটে কিছুতেই থামছে না জাকিরের জাল পর্চা ব্যবসা। স্বার্থান্বেষী একটি মহলের ছত্রছায়ায় ভূমি মালিকদের সাথে জমজমাট প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন জাকির।

অজ্ঞাত কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না তার বিরুদ্ধে। ফলে জালিয়াতি ব্যবসায় সম্পূর্ণ বেপরোয়া হয়ে ওঠেছেন কানাইঘাট সেটেলম্যান্ট অফিসের এই জাকির।

কুমিল্লা জেলার জাকির আহমদ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অবস্থান করছেন কানাইঘাট উপজেলা সদরস্থ সেটেলম্যান্ট অফিসের নাইটগার্ড কর্মচারী পদে।

অভিযোগে প্রকাশ, কানাইঘাট সেটেলমেন্ট অফিসের কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কর্তা-ব্যক্তিরা অফিসে না থাকার সুযোগে অফিস কর্মচারী জাকির আহমদ সংশ্লিষ্ট কর্তা-ব্যক্তিদের নাম-পদবীর সীল তৈরি করে রেখেছেন। তাদের জাল স্বাক্ষর বসিয়ে তিনি লোকজনকে ভূমির পর্চা দিয়ে থাকেন। আর পর্চাপ্রতি আদায় করে থাকেন ৫০০ টাকা করে। ফলে লাখ লাখ টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে জাল স্বাক্ষরের পর্চা বিক্রি করে দেশের বাড়িতে সুরম্য বাড়ি ও কোটি কোটি টাকার ভূ-সম্পত্তিও গড়ে তুলেছেন তিনি।

তার এহেন জালিয়াতি ব্যবসার ফাঁদে পড়ে ভুমির মালিক ও অধিকারীরা প্রতারিত হচ্ছেন। পাশাপাশি এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে ভুমি নিয়ে নানা বিরোধ। বিরোধের জের ধরে অহরহ ঘটছে মারামারি। ঘটছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি।

গত ৭ নভেম্বর সেটেলমেন্ট সিলেট জোনাল অফিসে এলাকাবাসীর পক্ষে দেওয়া লিখিত অভিযোগ থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এর আগেও গত ১২ সেপ্টেম্বর কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরেও এ ধরণের অভিযোগ করা হয় এবং স্থানীয় একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিতও হয়। কিন্তু কোনো প্রতিকার মিলেনি।

উপজেলার ঢালাইচরের জনৈক হাফিজ আহমদ অভিযোগসহ একাধিক ব্যক্তি স্বাক্ষরিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, চলতি বছরের আগস্ট মাসের শেষ দিকে হাফিজ আহমদ তার বসতবাড়ির ভূমির ৮টি জরিপী পর্চা তুলতে জাকির আহমদ এর কাছে যান। এ সময় জাকির পর্চার বিনিময়ে তার কাছে ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। হাফিজ আহমদ প্রাথমিকভাবে জাকিরকে ২ হাজার টাকা প্রদান করেন। পর্চা পাওয়ার পর বাকী টাকা দেবেন বলে সময় নেন। জাকির আহমদ তাকে ৬ টি পর্চা প্রদান করলে এর মধ্যে একটি পর্চা জাল ও ভুয়া স্বাক্ষরের বলে প্রমানিত হয়।

অভিযোগে আরও প্রকাশ, কানাইঘাট উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের কর্মচারী জাকির আহমদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নামে সীলমোহর তৈরি করে তাদের নামে জাল স্বাক্ষর বসিয়ে পিন্ট পর্চা, মাঠ জরিপের পর্চা, সিএস, এস এ, বি এস, ও আর এস পর্চা প্রদান করে ভুমি মালিকদের কাছ থেকে বড় অংকে টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছেন। জকিরের বসতঘরে সরকারী ভুমি ও জরিপ কর্মকর্তাদের একাধিক সীল ও পর্চা রয়েছে। এসএ ও মাঠপর্চা হাতে লিখে জাল স্বাক্ষর করে কর্তা-ব্যক্তিদের সীলমোহর বসিয়ে দেন তিনি।

সেটেলমেন্ট জোনাল অফিস সিলেট ও কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা অভিযোগ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চত করেছে। অভিযোগগুলো কানাইঘাটের সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর তদন্তে রয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগগুলো মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পর জাকির কিছুদিন কানাইঘাট থেকে চলে গিয়েছিলেন। তদন্তের মুখোমুখি হয়ে তিনি আবারো ফিরে এসেছেন। তদন্তকারীদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন। পাশাপশি অর্থ লাভে জাল পর্চার ব্যবসাও অব্যাহত রেখেছেন।

এ বিষয়ে জাকির আহমদের সাথে সেলফোনে কথা হলে তিনি জালিয়াতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন- আমি জোনাল অফিস সিলেট থেকে পর্চা এনে লোকজনকে দিয়ে থাকি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন