• ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ৯ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

গোয়াইনঘাটে ইউপি চেয়ারম্যানের টোকেনে জমজমাট গরু চোরচালান!

sylhetnewspaper.com
প্রকাশিত মে ১০, ২০২৩
গোয়াইনঘাটে ইউপি চেয়ারম্যানের টোকেনে জমজমাট গরু চোরচালান!

বিশেষ প্রতিবেদকঃসিলেটের গোয়াইনঘাট দিয়ে অবাধে আসছে ভারতীয় গরুর চোরাচালান।

আর এই চোরাচালানী জায়েয করে দিয়েছেন সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সুমন।

ইউপি চেয়ারম্যানের টোল টোকেন নিয়ে প্রত্যহ ট্রাক বোঝাই করে আনা ভারতীয় চোরাই গরু।

বিনিময়ে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে দৈনিক লাখ লাখ টাকার বখরা।

স্থানীয় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ এ বখরা আদায়ের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযোগে প্রকাশ,সাবেক ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রব্বানী সুমন বর্তমানে গোয়াইনঘাট উপজেলার ১২ নং সদর ইউপি চেয়ারম্যান।

২০২২ সালের ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে তিনি চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন।

এ সময় তাকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কারও করা হয়েছিল।নির্বাচনের পর আবার সেই বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

নির্বাচিত হয়েই চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সুমন তার অনুগতদের দিয়ে ভারতীয় চোরাই মাল থেক বখরা আদায়ের নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করেন।

নিজ বলয়ের ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীদের দিয়ে বুঙ্গার(চোরাচালানী)গরু থেকে বখরা আদায়ের জন্য ইউনিয়নের উন্নয় নাম একপ্রকার টোল(ট্যাক্স)জারি করেন এবং সেটির নাম দেন সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলাধীন ১২ নং গোয়াইনঘাট সদর ইউনিয়ন পরিষদের এলাকাধীন সরকারী রাজস্ব (কাস্টম ফি) ছাড়া নিয়ে যাওয়া গরু/মহিষ যাতায়াতে পরিবহনের উপর ইউনিয়ন উন্নয়ন ট্যাকস।

অদ্ভুত এ ট্যাক্স জারীর মাধ্যমে মূলত তিনি গরু চোরাচালানীদের কাছ থেকে কাস্টম ফি বিপরীতে বখরা আদায় শুরু করেন।

বখরা আদায়কে জায়েয,করতে গিয়ে নামমাত্র টাকা দেখিয়ে নিজ বলয়ের যুবলীগ কর্মী সুলতানের নামে ট্যক্স’র ইজারা লিখে নেন।

নামমাত্র এই ইজারামূলে চোরাকারবারীদের গরু পরিবহনের প্রতিটি গাড়ি থেকে ট্যাক্স নামে বখরা আদায় করছেন ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী ও তার বলয়ের ছাত্রলীগ যুবলীগ নেতাকর্মীরা।

মূলত চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সুমন ও তার বলয়ের উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুফিয়ান গরু চোরাচালানী থেকে বখরা বাণিজ্যের সাথে জড়িত বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ পন্থায় কাস্টমবিহীন ভারতীয় চোরাই গরু বহনকারী গাড়ি থেকে রসিদ দিয়ে সপ্তাহে লাখ লাখ টাকার বখরা আদায় করা হচ্ছে।

আর এ রসিদকে‘কাস্টম ফি’বানিয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলাকে ভারতীয় গরু চোরাচালানের স্বর্গরাজ্যে পরিণত করা হয়েছে।

শাসকদলীয় ইউপি চেয়ারম্যান প্রদত্ত ইজারা রসিদ দেখে বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ভারতীয় চোরাই গরু বোঝাউ গাড়িগুলো অনায়াসে ছেড়ে দিচ্ছে বলে অভিযােগে প্রকাশ।

উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সুফিয়ান ভারতীয় গরু/মহিষবাহী গাড়ি থেক টোল(বখরা)আাদায়ের সত্যতা স্বীকার করে বলেন,তিনি নয়,যুবলীগের সুলতান এটা আদায় করে থাকেন।

এ বিষয়ে গোয়াইনঘাটের ১২নং সদর ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম রব্বানী সুমন অতি দাম্ভিকতার সূরে বলেন-ছাত্রলীগের রাজনীতি ও আইনবিদ্যা পড়েই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি।

কোনটি আইনসিদ্ধ আর কোনটি অবৈধ,সে জ্ঞান আমাকে দিতে হবে না।

তিনি কাস্টবিহীন গরুর গাড়ি থেকে টোল আদায়ের জন্য সুলতানকে ইজারা দিয়েছেন বলে স্বীকার করলেওচোরাচালানীর গরুর গাড়ি থেকে টোল আদায়ের বিষয়ে কোনো বক্তব্য না দিয়ে মোবাইল ফোন কেটে দেন।

জানতে চাইলে শুক্রবার সকালে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.তাহমীলুর রহমানের সরকারি সেলফোনে কল দিলে দায়িত্বপ্রাপ্ত এসিল্যান্ড ফোন রিসিভ করে বলেন ইউএনও সাহেব ছুটিতে রয়েছেন।

এবিষয়ে আমার কিছুই জানা নেই।ইউএনও সাহেব আসলে আমি তাকে অবহিত করব এবং পরে জানাব।

এ সমময় তিনি ইউএনও’র হোয়াটসঅ্যাপে টোল আদায়ের রসিদের(টেকেন)একটি ফটোকপি এ প্রতিবেদকের কাছ থেকে সংগ্রহ করেন।বিস্তারিত আরও আসছে

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন