• ১লা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৬শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

নগরীর লালদিঘীর পাড় এলাকায় সুন্দর আলী,মরম আলীর রমরমা পতিতা ব্যবসা

sylhetnewspaper.com
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ৫, ২০২১
নগরীর লালদিঘীর পাড় এলাকায় সুন্দর আলী,মরম আলীর রমরমা পতিতা ব্যবসা

বিশেষ প্রতিবেদনঃঃ সিলেট নগরির লালদিঘীর পার এলাকায় সাইনবোর্ড ছাড়াই চলছে আবাসিক হোটেল।

করোনাকালেও এখানে জমে কামুকদের আড্ডা। পুলিশ, সাংবাদিক,যুব বুড়ো,ব্যবসায়ী শিক্ষার্থী সকলই যায় এই মধুকুঞ্জের মধু আস্বাদনে। তাদের পাশাপাশি নোটও পান স্থানীয় কিছু চাঁদাবাজ-বখরাবাজরা।

এক সময় এটির নাম ছিল হোটেল ভাইভাই।পরিবর্তনে কোন নাম না দিয়েই চলছে হোটেল। নামে আবাসিক হলেও এখানে কেউ থাকে না।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নিয়ে আনা হয় কিশোরী-তরুণীদের।

দালাল ছাড়া এই হোটেলে কোন বর্ডার নেই।অনুসন্ধানে জানা গেছে,দেশের বিভিন্নস্থান থেকে চাকরি দেওয়ার,বিয়ে করার প্রলোভন এনে অনেক তরুণী ও যুবতীদের এই হোটেল তালাবন্ধী করে রেখে ইচ্ছার বিরুদ্ধ দেহদানে বাধ্য করা হয়।

বিভিন্ন স্থান থেকে অপহৃত ও অপ্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েদের রেখে চড়া দামে খদ্দের কামনা পূরণে দেওয়া হয়ে থাকে।

মদ্যপ ও কামুক টাইপের কিছু অসাধু ব্যক্তিরাও প্রতিদিন এই হোটেলে গিয়ে সময় কাটান। টাকার পাশাপাশি মেয়েদের উপহার দেওয়া হয় তাদেরকে।

অনলাইন ও ভুঁইফোড় মিডিয়া কর্মীদের একটি তালিকা রয়েছে হোটেল ম্যানেজার মরম আলীর কাছে। তালিকা অনুযায়ী সাপ্তাহিক ও মাসিক অগ্রিম বখরা পেয়ে থাকেন তারা।

লেখালেখিতে মাঝে-মধ্যে আইওয়াশ অভিযানে আটকা পড়লে বয়স ১৮+ দেখিয়ে জরিমানা দিয়ে ছাড়িয়ে পুনরায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশ-সাংবাদিক ম্যানেজ থাকায় দিনদুপুরে নারীদের ওঠা-নামা করালেও বাঁধা দেওয়ার সাহস কারোর নেই। প্রতিবাদ করলেই নারী নির্যাতন মামলার হুমকি।

নারী-শিশু ধর্ষণ ও নির্যাতনের নিরাপদ স্পট সিলেট নগরীর লালদিঘীর পারস্থ হোটেল আগে জার নাম ছিলো হোটেল ভাইভাই। বর্তমানে সাইনবোর্ড ছাড়াই নাম ঠিকানা বিহীন চলছে এই হোটেল।

এই হোটেল নামের পতিতালয় বর্তমানে ভাড়ায় রেখে বর্তমান মালিক হিসেবে পরিচালনা করেন
কমলগঞ্জের ঠাকুর বাজারের সুন্দর আলী,ও একই এলাকার ম্যানেজার মরম আলী।

আধ্যাত্মিক নগরী সিলেটে এইসব পতিতাবৃত্তির ব্যবসা এখন ওপেন সিক্রেট। লালদিঘীরপারে প্রতিবেদককে এমনই বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। একজন লোক এসে প্রতিবেদক এর হাতে একটি টিকিট ধরিয়ে দিয়ে বলল রুম দেখিয়ে বললেন চলেজান নতুন কিছু মাল আসছে,স্টুডেন্ট নাকি সেটা জানতে চাইল।

সংবাদকর্মী পরিচয় গোপন রেখে লোকটির সাথে কিছুক্ষণ কথাবার্তা চলল এ প্রতিবেদকের। বর্তমানে লালদীঘিরপাড় এলাকায় সাইনবোর্ড ছাড়া কোন নাম না দিয়েই , নগরীতে সবচেয়ে রমরমা দেহ ব্যবসা করে আসছে।

হোটেল মালিক সুন্দর আলী ও ম্যানেজার মরম আলী এই দুই আলী তাদের কিছু সদস্য আছে তাদের কাজ মূলত আশপাশের এলাকা থেকে খদ্দের সংগ্রহ করে দেয়া।

এজন্য তারা কাষ্টমার ভেদে কমিশন পেয়ে থাকেন। সাইনবোর্ড ছাড়া এই হোটেলে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলা ও এলাকা থেকে মেয়েদের আনা হয়।

মেয়েদের মধ্যে ১৭-২৩-২৬ বছর বয়সী মেয়েদের সংখ্যাই বেশি। এদের বেশীরভাগই আবার বিভিন্ন কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছাত্রী। তাদের কাষ্টমার মুলত ১৫ থেকে শুরু করে ৫০ বছরের। তবে উঠতি বয়সি যুবক ও কলেজ ছাত্ররাই তাদের প্রধান খরিদ্দার।

তারা টার্গেট ও করেন এই বয়সি যুবকদের। এছাড়া ফোন কলের মাধ্যমেও তারা কাষ্টমার পেয়ে থাকেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আলোচিত-পতিতা ব্যাবসায়ী সুন্দর ও মরম দায়িত্ব তাকা হোটেলের এক দালাল জানান অনেক মেয়েই রাস্তাঘাটে ঘুরাফেরা করে বিভিন্ন ইশারা ইংগিতের মাধ্যমে পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাড়া পেলে তাদের নিয়ে পূর্ব নির্ধারিত হোটেলে আসেন।

টাকার ভাগ-বাটোয়ারা কিভাবে হয়? জানতে চাইলে তিনি জানান,মেয়েরা প্রতিটি কাজে ২৫% পায়, প্রশাসন ও স্থানীয় নেতারা পায় ৩৫%,১৫% দেওয়া হয় এজেন্টকে এবং বাকি হোটেল কর্তৃপক্ষ সুন্দর আলী ও মরম আলীর ভাগে থাকে। সিলেট নগরীতে পতিতা বিরোধী আইওয়াশ অভিযান মাঝে মধ্যে হলেও সময়ের ব্যবধানে এর সিষ্টেম কিছুটা পরিবর্তন হয়।

কিছুদিন আগে নগরীর বিভিন্ন আবাসিক হোটেল গুলোতে অভিযান করে নামে মাত্র কয়েকজন পতিতা ও খদ্দের আটক করলেও অভিযানে মুল হোতা মরম আলী ও সুন্দর আলী তাদের কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।

মুল হোতাদের চিহ্নিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সুন্দর আলী মরম আলী চক্র।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে,বিভিন্ন আবাসিক হোটেল, মেসের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সমানতালে পতিতা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে হোটেল মালিক ও দালালরা।

মাঝে মধ্যে আইন শৃংখলা বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করে পতিতাদের আটক করলেও মালিক দালালদের আটক করা সম্ভব হচ্ছেনা। জানাগেছে, সুন্দর আলী ও মরম আলী লালদিঘী র পা র হোটেলসহ নগরের বিভিন্ন জায়গায় দীর্ঘদিন থেকে হোটেলে পাপরাজ্যে চালিয়ে যাচ্ছে এই সুন্দর আলী ও মরম আলী চক্র ।

পবিত্র নগরীতে তাও আবার মসজিদের কাছাকাছি মালিকানাধীন হোটেলে কিভাবে পাপরাজ্য গড়ে উঠেছে তা ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন মহলকে।

এদিকে,আবাসিক হোটেল গুলোর আশপাশের ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনতা স্বার্থক অভিযান চালানোর ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আর্কষণ করেছেন।

তাদের মতে,পতিতাবৃত্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে যুব সমাজ ভয়ানক পথে পা বাড়াবে। ফলে ছিনতাই, নেশাগ্রস্থ হয়ে জাতিকে অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাবে। এতে মরণ ব্যাধি এইডসসহ নানা ব্যাধিতে আক্রান্ত হবে গোটা সিলেট।

এ বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আবু ফরহাদ জানান এব্যাপারে আমার জানা নেই, তবে অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •