• ২০শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ৬ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ১৪ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি

ভুয়া নাম-ঠিকানায় বিদেশগামী রোহিঙ্গাদের ভরসা সিলেট পাসপোর্ট অফিস

sylhetnewspaper.com
প্রকাশিত আগস্ট ২৯, ২০২১
ভুয়া নাম-ঠিকানায় বিদেশগামী রোহিঙ্গাদের ভরসা সিলেট পাসপোর্ট অফিস

নিজস্ব প্রতিবেদক :: বাংলাদেশী পরিচয়ে বিদেশ পাড়ি দেওয়ার জন্য সিলেট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসকেই মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছে বিদেশগামী রোহিঙ্গা ও ভারতীয়রা।

এক শ্রেণির দালালদের মাধ্যমে ওই অফিস থেকে ভুয়া নাম-ঠিকানায় পাসপোর্ট সংগ্রহ করে মধ্যপ্রাচ্য,ইউরোপ ও আমেরিকাসহ পৃথিবির বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমাচ্ছে তারা।

তাই সিলেট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস বিদেশগামী রোহিঙ্গা ও ভারতীয়দের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে।

অভিযোগ পাওয়া গেছে,সিলেট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্তা-ব্যক্তিদের সাথে রয়েছে আদম ব্যবসায়ী ও মানব পাচারকারী একাধিক দালাল চক্রের আর্থিক লেনদেন।

দালালচক্র পাসপোর্ট অফিসের কর্তা-ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগী মূলে টাকার বিনিময়ে গ্রাহকদের জন্য ভুয়া নাম ঠিকানায় প্রথমে জন্মসনদ,নাগরিক সনদ সহ প্রয়োজনীয় কাগজাত তৈরি করে।

টাকার বিনিময়ে রোহিঙ্গা টেস্ট করিয়ে পাসপোর্ট আবেদন দাখিল করায়। পরে পুলিশকে টুপাইস দিয়ে ম্যানেজ করে ভেরিফিকেশন রিপোর্টও করিয়ে নেয়।

এভাবে হাজার হাজার বাংলাদেশী ভারতীয় ও রোহিঙ্গারা ভুয়া নাম ঠিকনা দিয়ে সিলেট পাসপোর্ট অফিস থেকে পাসেপোর্ট তৈরি করে নিচ্ছে।

একাধিক মামলার আসামী হওয়া সত্বেও বাংলাদেশীরা ওই পাসপোর্টের ঠিকানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিয়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।

বিনিময়ে দালালদের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা কামাই করছেন সিলেট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের কর্তা-ব্যক্তিরা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার থানার ঘোঙ্গাদিয়া নয়া গ্রামের মো.গিয়াস উদ্দিন।

তার পরিবার পরিজন নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন তিনি।

নিজ জন্মস্থান ও পৈত্রিক ঠিকানার পরিবর্তে নাম-ঠিকানা পরিবর্তন করে লক্ষীপুর জেলার একটি ঠিকানায় কাগজাত তৈরি করে দালালদের মাধ্যমে পরিবারের সকল সদস্য্যের লক্ষীপুর জেলার স্থায়ী ঠিকানায় পাসপোর্ট আবেদন দাখিল করেন।

গিয়াস উদ্দিনের পরিবর্তে নিজের নাম দেন মো.গিয়াস উদ্দিন পাটোয়ারী,পিতা-মোঃ আব্দুর রশিদ পাটোয়ারী, মাতা-তাহেরা বেগম ও স্ত্রী শিরীণ জাহান।
খবর ক্রাইম সিলেট।
জন্মস্থান ও স্থায়ী ঠিকানা সিরেটের বিয়ানীবাজারের পরিবর্তে দেন দেহালা,আঠাকারা,রামগঞ্জ,লক্ষীপুর।

ভুয়া এই নাম ঠিকানায় একই পরিবারের একাধিক পাসপোর্ট সংগ্রহ করে নেন তিনি।

স্থায়ী কিংবা বর্তমান বলে সিলেটের কোন ঠিকানাই ব্যবহার করেননি তিনি।

সিলেট পাসপোর্ট অফিসে গিয়াস উদ্দিনের পাসপোর্ট ডেলিভারী ষিøপ নং-৭৮৩০৮২ তাং-০৯.১০.২০১৯।
সরেজমিনে দেখা গেছে- গিয়াস উ;িদ্দন তার চৌদ্দ পুরুষসহ সিলেট জেলার বিয়ানীবাজারের ঘোঙ্গাদিয়া নোওয়া গাওয়ের স্থায়ী বাসিন্দা।

নিয়ম মোতাবেক পাসপোর্ট করতে বড়দের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন হলেও শুধুমাত্র জন্মসনদ দিয়েই গিয়াস ও তার পরিবার সকল পাসপোর্ট করিয়ে নেন দালালদের মাধ্যমে।

অভিযোগে প্রকাশ,শুধু গিয়াস উদ্দিন নয়, এরকম হাজার হাজার ব্যক্তি ও পরিবার টাকার বিনিময়ে ভুয়া নাম-ঠিকানা দিয়ে সিলেট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে প্রত্যহ পাসপোর্ট সংগ্রহ করে চলেছে।

এদের মধ্যে আবার অনেক রোহিঙ্গা এবং ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন। ভারতে পাসপোর্ট সংগ্রহে খুবই কড়াকড়ি এবং কঠিন হওয়ায় চোরাই পথে সীমান্ত পার হয়ে বহু ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশের জন্মসনদসহ অন্যান্য কাগজাত সৃষ্টি করে সিলেট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট তৈরি করে অন্যান্য দেশে পাড়ি জমাচ্ছে।

এমনকি বাংলাদেশী হয়ে ভারতের ভিসা নিয়ে সে দেশে আসা যাওয়াসহ বাংলাদেশের মানব ও সম্পদ পাচারে লিপ্ত রয়েছে।

গত তিনবছরে কয়েকহাজার ভারতীয় ও রোহিঙ্গা সিলেট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ পাড়ি জমিয়েছে বলে সূত্রে প্রকাশ।

সিলেট পাসপোর্ট অফিস গেইটে রোহিঙ্গা/বিদেশী টেস্ট নামে কক্ষ ও মেশিন বসানো হলেও দালালরা টাকার বিনিময়ে ওই কক্ষ থেকে বাংলাদেশী বলে সিলমোহর নিয়ে পাসপোর্ট আবেদন দাখিল করাতে পারে।

বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে একটি পাসপোর্টের বিপরীতে লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করে থাকে দালাল ও পাসপোর্ট অফিসের কর্তা-ব্যক্তিরা। অভিযোগ পাওয় গেছে- বিয়ানী বাজারের উল্লেখিত গিয়াস উদ্দিন লক্ষীপুর জেলার রামগঞ্জ থানার দেহালা-আঠাকারা নাম ঠিকানায় তার পরিবারে ৬ জনের পাসপোর্ট তৈরী করে নিয়েছেন।

সর্বশেষ স্থানীয় অভিযোগে তার পাসপোর্ট আটকা পড়লে বড় অংকের টাকার লেনদেনে গিয়াস উদ্দিন তার পাসপোর্টও ছাড়িয়ে নেন।

এব্যাপারে গিয়াস উদ্দিনের সাথে মোবাইল ফোনে কথা হলে তিনি লক্ষীপুর জেলার ঠিকানায় তার ও তার পরিবারের সদস্যদেরর নামে পাসপোর্ট করিয়ে নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন-টাকার নাম জয়রাম টাকা থাকলে অয় কাম।

আমি টাকা দিয়ে পাসপোর্ট বানিয়েছি এতে সাংবাদিকদের কি আসে আর কি যায়। সরকারের পাসপোর্ট অফিস আমাকে পাসপোট দেয় কেন? সে প্রশ্ন অফিস কর্তা-ব্যক্তিদেরকে করেন।

এবিষয়ে বক্তব্য নিতে সিলেট আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের ডিডি আজহারুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যেগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন