• ১লা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ , ২৬শে রবিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

সংখ্যালঘুদের জমি দখলের অভিযোগ ভূমিদস্যু মজলাই বাহিনীর বিরুদ্ধে

sylhetnewspaper.com
প্রকাশিত জুলাই ২৫, ২০২১
সংখ্যালঘুদের জমি দখলের অভিযোগ ভূমিদস্যু মজলাই বাহিনীর বিরুদ্ধে

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সিলেট নগরীর বন্দরবাজার সংলগ্ন কাষ্টঘরের জল্লা’য় ত্রাস হাবিবুর রহমান মজলাই ও তার বাহিনী আবারও বেপোরোয়া হয়ে ওঠেছে।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে জানা যায়,আদালত থেকে জামিন নিয়ে ৭/৮দিন নীরব থাকলেও আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে মজলাই বাহিনী।

নতুন করে শুরু করেছে সাধারণ মানুষের জমি সরকারি খাসজমি দখল,, চাঁদাবাজি, রাস্তায় মাটি ভরাটসহ বিভিন্ন অপরাধমুলক কর্মকাণ্ড।

জানা গেছে, জামিন নিয়ে আসার পর থেকে স্থানীয় সংখ্যালঘু পরিবারগুলোও তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ।

মজলাই বাহিনীর ভয়ে প্রায় বেশ কয়েক’ সংখ্যালঘুদের পরিবার বর্তমানে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। মজলাই ও তার বাহিনীর নিপীড়নে বর্তমানে আতঙ্কে ভুগছে এলাকাবাসী।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, প্রভাবশালী দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরের প্রবাসী গোলাম কিবরিয়া হিরা মিয়ার ছত্রছায়ায় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে হাবিবুর রহমান মজলাই বাহিনী। তার বাহিনীর সন্ত্রাসীরা জল্লা এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

সম্প্রতি পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলনে ভূমি আত্মসাৎ ও দখল বিষয়ে একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার জৈনপুরের গোলাম কিবরিয়া হিরা মিয়া ও নগরীর চালিবন্দরের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান মজলাই। বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হচ্ছে । এবার তারা আবাসন প্রকল্পের নামে জল্লা গিলে খেতে ঐক্য হয়েছেন মজলাই ও হিরা।

জল্লার মাদানী সিটি এলাকায় স্থানীয় কেউ কোন ধরনের কাজ করাতে হলে হাবিবুর রহমান মজলাই বাহিনীকে নজরানা দিতে হয় না দিলে এখানে কোন কাজ করা যাবেনা এই জায়গায় অনেক ঝামেলা আছে। মাদানী সিটিতে কোন রাস্তা ভরাট করতে হলে তাকে দিতে হয় মোটা অংকের চাঁদা। কেউ বাড়ি নির্মাণ করলে দিতে হয় টাকা। জমি বিক্রি করলে দিতে হয় লাখ টাকা।

ভুক্তভোগীরা আরও জানায়, হাবিবুর রহমান মজলাই ও তার বাহিনীর তাণ্ডব ও হামলার খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে মজলাই ও তার বাহিনী কয়েক দিন গা ডাকা দেয়। এরপর আদালত থেকে জামিন নিয়ে আবারও দখলের মহোৎসব শুরু করে তারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ড ছড়ারপার এলাকার মৃত মরহুম আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে মজলাই (৫৭), নিরীহ মানুষের জমি দখল শুরু করে। ধীরে ধীরে তৈরি করেছেন কয়েকটি ভবন ।

বর্তমানে নিজের দুই ছেলে ও ভাই ভাতিজাসহ কিছু বহিরাগত নিয়ে এ বাহিনী, নেতৃত্ব দিচ্ছে হাবিবুর রহমান মজলাই । চালাচ্ছে সাধারণ মানুষের জমি জবরদখল। এসব করে অল্প সময়েই কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক বনে জান । এ বাহিনীর অত্যাচারে বর্তমানে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এলাকার নিরীহ সংখ্যালঘু পরিবার ।

হাবিবুর রহমান মজলাই বাহিনীর ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করার সাহসও পান না স্থানীয়রা।

মাদানি সিটিতে যাদের জমিজমা রয়েছে তারাই থাকেন সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে। চোখ পড়লেই জোরপূর্বক জমি দখল করে নেন এই বাহিনী ।

বিভিন্ন অপকর্ম করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। ভূমিদস্যু হাবিবুর রহমান মজলাই। স্থানীয়রা জিম্মি হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষকে আতংকিত করতে এ বাহিনী কয়েক দিন পর পর তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। আর এসব তাণ্ডবের প্রতিবাদ করতে গেলেই মামলা-হামলা, মারপিট করা হয় প্রতিবাদকারীদের। তাই কেউ এ বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহসটুকুও পান না।

এ বাহিনীর বিরুদ্ধে জাল দলিল করারও অভিযোগ রয়েছে। জাল দলিল করে জমি দখল করে মাটি ভরাট করে ফেলেছে এ বাহিনী।

এলাকায় সংখ্যালঘুদের জমি দখলে নেন মজলাই।
সবসময় তার রেডি করা গ্রুপ জমি দখলের কাজে নিয়োজিত থাকে।

শেষ পর্যন্ত গত মাসে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার সংলগ্ন কাষ্টঘরের জল্লা’র জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এক ব্যবসায়ীর উপর হামলার ঘটনায় এসএমপি’র কোতোয়ালী থানা মামলা হয়। আহত ব্যবসায়ী নগরীর উপশহর এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে এবাদুর রহমান (৩৪) বাদী হয়ে ৫ জনের নামোল্লেখ করে একটি অভিযোগ দাখিল করেন। পরে ঘটনাটি তদন্ত করে মামলা রুজু করে এসএমপি’র কোতোয়ালী থানা। মামলা নং-০৭ (০৫/০৭/২১ইং)। ৪ জুলাই রোববার কাষ্টঘরের জল্লা’র সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

মামলায় আসামীরা হলেন- ছড়ারপার এলাকার মৃত মরহুম আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান ওরফে মজলাই (৫৭), তার দুই ছেলে কয়েছ আহমদ (৩৭) ও ছামসুল ইসলাম (২৮) এবং একই এলাকার মৃত জমির মিয়ার ছেলে ইমন আহমদ (২৮) ও সুমন আহমদ (৩৭) সহ অজ্ঞাত ৩ জন।

এসএমপি’র কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি এসএম আবু ফরহাদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ ব্যপারে জানতে হাবিবুর রহমান মজলাইর মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে নাম্বারটি ব্যস্ত আছে পাওয়া যায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •